মানুষ যে দিন থেকে শক্তির রুপান্তরের মাধ্যমে আগুন জ্বালাতে শিখল সেই দিন থেকেই মূলত জ্ঞানের এই শাখার সূচনা। এর পর থেকে অনেক শতাব্দি যাবত মানুষ এই শক্তিকে ব্যবহার করত খুবই প্রাথমিক কাজে যেমন খাবার তৈরী বা রাতের অন্ধকারে আলোর উৎস হিসেবে। এক পর্যায়ে মানুষ যুদ্ধক্ষেত্রেও এর ব্যবহার শুরু করে। আস্তে আস্তে মানুষ শেখে কি ভাবে chemical reaction এর মাধ্যমে ঘটা expulsion কে কাজে লাগিয়ে কামানের গোলা ছুঁড়তে হয় (যেই principle আজও বন্দুকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়)।
কিন্তু সভ্যতা তো আর বসে থাকে না! মানুষের চলাচলের জন্য আগে যেমন ছিল ঘোড়া, গাধা কিনবা উট তা পরিবর্তিত হল শক্তির রুপান্তের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা যানবাহনের মাধ্যমে। এর পর আলেসান্দ্র ভোল্টা, এডিসন, টেসলা এদের হাত ধরে সূচনা হল কি করে বিভিন্ন রাসায়নিক, যান্ত্রিক বা তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুত নামক এক অসাধারন শক্তি পাওয়া যায়।
  ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে যে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল তা কেবল জ্ঞানের এই শাখা কে সম্মৃদ্ধই করে নি বরং শক্তির নানা রকম ব্যবহারের উপর পুরো সভ্যতা একেবারে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর আধুনিক এই যুগে তো অক্সিজেনের প্রয়োজনিয়তার পরই স্থান করে নিয়েছে শক্তির নানান ব্যবহারের প্রয়োজনিয়তা। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে Energy Science & engineering (ESE) এর গুরুত্ব কতটুকু।
তাহলে এবার আসা যাক এটি কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সেই বিষয়ে
Energy Science & engineering মূলত কি ভাবে এবং কত efficient way তে বা কত ecofriendly ভাবে শক্তির রূপান্ততর করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করে। ব্যাপার টা একটু ঘোলাটে লাগছে?
তাহলে একটু খুলে বলি। এখানে কি ভাবে আমরা জ্বালানির মধ্যে থাকা রাসায়নিক বা নিউক্লিয়ার শক্তিকে তাপে রূপান্তর করে সেটা থেকে যান্ত্রিক শক্তি পেতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনা করা। যেমন petrol engine বা diesel engine জ্বালানি থেকে এবং turbineএ বাষ্প বা গ্যাস থেকে যেই গতি শক্তি পাওয়া যায় যেটা আবার যানবাহন বা electrical power plant এ ব্যবহৃত হয় অথবা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত শক্তিকে বিভিন্ন শক্তিতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। আর প্রয়োজনীয় শক্তিকে কত কম জালানি খরচ করে পাওয়া যেতে পারে সেটাও এখানে আলোচিত হয়। আবার এই জ্বালানি থেকে যেই সমস্ত ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায় সেগুলোকে কি ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায় বা কমানো যায় যাতে পরিবেশের ক্ষতি কমানো যায় সেটাও ESE এর আলোচ্য বিষয়।
আবার renewable energy source যেমন solar cell, wind turbine, water turbine, biogas ইত্যাদি থেকে শক্তি উৎপাদন নিয়ে আলোচনাও ESE এর অনেক বড় একটি ক্ষেত্র। এটাত নিশ্চই বলে দিতে হবে না যে এই সব renewable energy ভূগর্বস্থ জ্বালানীবিহীন ও শতভাগ পরিবেশ বান্ধব যার কারনে বিশ্ব জুড়ে এর চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা ও উৎপাদন দিন দিন বেড়েই চলছে।
এরপর আসা যাক কি কি পড়ানো হয় ESE তে?
এখানে যেসব core energy related course গুলো পড়ানো হয় সেগুলো হলঃ
Thermodynamics and energy conversion
Heat transfer Internal combustion engines
Nuclear energy engineering
Nuclear reactor theory
Nuclear reactor thermal hydraulics and safety
Power plant engineering
Power
Electronics and Machines
Sustainable and Renewable energy
Bio energy Engineering: Principles and Applications
Solar Energy Engineering
Wind and Hydro Power
Fluid power transmission and control
Energy system modeling and analysis
Electrical energy systems
Materials and devices for energy conversion
Refrigeration and air conditioning system
Energy Management
Energy conversion and environment etc. 
এগুলোর সাথে আরও থাকবে mathematics এর তিন চারটি course, physics এর course, chemistry এর কয়েকটি course। সাথে Engineering mechanics (statics, dynamics), Mechanics of solid, Fluid mechanics এই কোর্স গুলোও থাকবে। থাকবে Basic electrical engineering, Electrical Machine, Electronics এমনকি Computer programming এই কোর্স গুলোও। সেই সাথে শেখানো হবে বিভিন্ন CAD designing software যেমন AutoCAD, Solid works এইগুলোও। এই সব কিছু তোমাকে একজন পুরো দস্তুর Engineer হিসেবে গড়ে তুলবে।

এবার দেখা যাক এই subject এর job sector কি রকম?
         দেশে কিংবা দেশের বাইরে এই subject এর job sector huge. দেশেজুড়ে বিভিন্ন পাওয়ার জেনারেসন প্লান্ট গুলোতে energy engineering graduateদের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। আবার আমাদের দেশে যেই পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে সেখানেও ESE studentদের ভূমিকাই থাকবে সবচেয়ে বেশি।
আর বিশ্ব জুড়ে renewable energy এর যে বিল্পব চলছে তাতে বাংলাদেশও কিছু দিনের মধ্যে এটা নিয়ে কাজ করা শুরু করলে ESE studentরাই সেই কাজের নেতৃত্ব দিবে (already কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে যা প্রায় পুরো চট্টগ্রামের বিদ্যুতের চাহিদা পূরন করে এবং বাংলাদেশ সরকারের renewable energy policy এর লক্ষমাত্রা হল ২০২০ সালের মধ্যে total energy এর 10% আসবে এই renewable energy source থেকে)।
আর দেশের বাইরের কথা বলতে গেলে USA তে এই profession এ average yearly salary হল $64,587 U.S. dollars যেটা অনেক নাম করা subject এর চাইতেও অনেক বেশি। আবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন ডেনমার্ক, জার্মানিতে total energy এর ৩০-৪০% ই আসে renewable energy source থেকে যেটা পুরোপুরিই এই ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর নির্ভর করে।

আর research এর ক্ষেত্রে বলতে গেলে গত কয়েক শতাব্দী যাবত যেসব বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে তার মধ্যে energy technology অন্যতম। তোমার মাথা থেকে যদি অনেক innovative idea আসে, তাহলে তোমার সেই quality কে কাজে লাগানোর জন্য ESE department হচ্ছে perfect place। আবার অন্যান্য engineering subject এর research field saturated মনে হলেও এই subject এ যেমন renewable energy বা অন্য কিছু নিয়ে সাড়া জাগানোর মত কিছু করা যেতে পারে। (বি. দ্র. বর্তমানে এই subject টি শুধু KUET এ আছে।)

সব শেষে নবীনদের এই নবীনতর কিন্তু অপার সম্ভাবনাময় Energy Science & engineering (ESE) department এ স্বাগতম……

লিখেছেন,
MD Faysal Hossain
Department of Mechanical Engineering
KUET Batch: 2k14


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.