ইতিহাস

রোমান চ্যারিটি (La Charité Romaine)

কারাগারে একজন বৃদ্ধলোককে একজন যুবতীর স্তনদুগ্ধ খাওয়ানোর এই চিত্রকর্মটি ৩ কোটি ইউরো-তে বিক্রি হয়।

এ চিত্রকর্মটি সাধারণের চোখে বিকৃত মনে হতে পারে তবে এর পিছনে রয়েছে এক গভীর নাড়া দেবার মত ইতিহাস।

ফ্রান্সে ৪র্থ লুই এর রাজত্বে রুটি চুরির অপরাধে সিমন নামেরএক বৃদ্ধকে ‘অনাহারে মৃত্যু’-র শাস্তি দেয়া হয়। পেরো নামের এক যুবতী ছিল বৃদ্ধের একমাত্র কন্যা এবং কারাগারে বৃদ্ধের একমাত্র দর্শনার্থী। সে প্রতিদিন তার বাবার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পায় এই শর্তে যে, সে কোনো খাবার নিয়ে প্রবেশ করবে না।

৪ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন বৃদ্ধ সিমন বেঁচে রইলেন, এমন কী তার ওজনও কমলো না, তখন কর্তৃপক্ষ অবাক হয়ে তার কারাগারে গুপ্তচরের ব্যবস্থা করেন এবং জানতে পারেন পেরো তার নিজের সন্তানের পরিবর্তে তার স্তনদুগ্ধ তার বাবাকে খাওয়াচ্ছেন। বাবার প্রতি এই প্রবল মমত্ববোধ এবং ভালবাসা দেখে বিচারকমণ্ডলী বৃদ্ধের অপরাধকে মওকুফ করে তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

প্রাত্যহিক জীবনে একজন মহিলার মমত্ববোধ কতটা গভীর তা এই চিত্রকর্মের খন্ড ইতিহাস দেখলেই অনুধাবন করা যায়, যা পুরুষ সমাজ প্রায়ই উপেক্ষা করে থাকে।
বিখ্যাত ফরাসি চিত্রশিল্পী জুলস জোসেফ লিফার্ব (১৮৩৬-১৯১১) তার এই চিত্রকর্মটি ১৮৬৩ সালে সম্পন্ন করেন। রোমান চ্যারিটি– পল রুবেন্স, ভ্যান মল, ভ্যান বাবুরেন এর মত বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের তুলিতে অমর হয়ে আছে।

Leave a comment

Your email address will not be published.