রুমির কবিতা পড়তে গিয়ে লোকে যেখানে ভুল করে তা হলো অত্যাধিক পরিমাণে ভালোবাসা জাতীয় শব্দ দেখে মনে হতে পারে এ কেবল মানব মানবীর প্রেম আর তাই নিয়েই যত আলোচনা কিন্তু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া মারাত্মক ভুল। এই ভালোবাসা, এই বিরহ কেবল সৃষ্টি ও স্রস্টার মধ্যকার এসব কোনো পার্থিব ভালোবাসা নয় বরং ঐশ্বরিক!

রুমির কবিতার অনেক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো খুব বেশি পরিমাণে সুন্দর সুন্দর উপমার ব্যবহার আর এর স্বার্থকতা গগণচুম্বি!

সবচেয়ে যে বিষয়টি আরো টানে তা হলো আপনি যতই মনোযোগ সহকারে পড়েন‌ না‌ কেনো পড়ার শেষে মনে হবে আমি ঠিক বুঝলাম তো নাকি?

না আরো মূল্যবান কিছু লুক্কায়িত রয়ে গেলো আমার অজান্তে যা আপনাকে বারংবার টানবে আর এই অনুভূতি ক্রিয়াশীল থাকবে! বর্তমান সময়েও রুমি মার্কিন মুলুকে প্রচন্ড জনপ্রিয়, প্রায়ই বেস্ট সেলিং কবিদের তালিকায় পাওয়া যায় তার নাম! ইহাছাড়াও তাকে নিয়ে নানান গবেষণা তার কবিতার বিশ্লেষণ সে তো চলছেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা কোনো কফি হাউজের আড্ডাখানায়! আমি শুধু ভাবি একজন মধ্যযুগীয় সুফি কে নিয়ে কেনো এত আয়োজন!

ধীরে ধীরে বুঝলাম‌ অথবা বুঝলাম না! তবুও বলি! পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায়‌ ৮০০ কোটি তবুও দিন দিন বেড়ে চলেছে একাকীত্ব! প্রতি মূহুর্তে মনে হচ্ছে সমাজ আমাকে ঠকাচ্ছে কিংবা প্রত্যক মানুষ যেনো কোনো এক অজানা কারণে আমার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে! মানুষের ‌ক্রমবর্ধমান আকাংক্ষার বশে ভালো মন্দের পর্দাটা ক্রমশ পাতলা হয়ে পড়ছে। মানুষ তার মনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আধ্যাত্মিকতা, তার‌ অস্তিত্ব যেনো হারাতে বসেছে বস্তুবাদের খপ্পরে পড়ে!

এই সামগ্ৰিক চিত্রকে সামনে রাখলে কিছুটা বোঝা যায় কেনো রুমির গুরুত্ব বাড়ছে! 

আধুনিকমনস্ক মানুষ (জানি না কতটা আধুনিক) মানুষ ধর্ম কে মুছে ‌ফেলতে চাইলেও মানব প্রকৃতির এই বড়সড় অংশকে উপড়ে ফেলা অসম্ভব! তাই তারা আধ্যাত্মিকতার স্বাদ‌ গ্ৰহন করতে ধর্মকে বাদ দিয়ে এসবের আশ্রয় নিচ্ছে কিন্তু হায় তারা যদি জানতো এইসব সাধকগণ যারা‌ এতকাল আগে এসব অমৃতবাণী রচনা ‌করে গেছেন তা গভীর ভাবে তাদের ধর্ম, দৃঢ় বিশ্বাস স্রস্টার প্রতি, এসব থেকেই অনুপ্রাণিত আর বোধহয় সেইজন্যই এই কবিতা গুলো এতটাই জীবন্ত ও প্রাণোচ্ছল! 

তোমারা যারা রুমিকে (মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি) চেনো না…….

রুমিকে বিশ্ব চেনে মূলত একজন কবি হিসেবে যা তার প্রতি হয়তো অবিচার! রুমির জন্ম ১২০৭ সালের এই মাসে তখনকার বলখ্ যা বর্তমানে আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তান এর অন্তর্গত! প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন তার সময়ের একজন নাম করা ইসলামিক পন্ডিত। রুমির সাথে তার আধ্যাত্মিক গুরু শামস্ তাবরিজ এর সাক্ষাৎ এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা যা রুমির জীবনের নক্সা চিরতরের জন্য পরিবর্তন করে দেয় অথবা এ সাক্ষাৎ না হলে রুমিকে হয়তো আমরা চিনতাম না! তাই রুমি তার বিভিন্ন কবিতা তার গুরুর নামে উৎসর্গ করেছেন যা তাদের দুজনকে অমর করে রেখেছে!

রুমি ফার্সি ভাষার কবি হলেও বর্তমানে ইংরেজী তে অনুবাদের পরেও তিনি সমান জনপ্রিয় এবং যা পৃথিবীর সমস্ত মত, ধর্ম , সংস্কৃতি ভেদ করে সাদরে গৃহিত যা তার মহত্ব কে প্রমান করে! রুমির সমাধী তুরস্কের কোনিয়াতে অবস্থিত যা বছরে ২৮ লক্ষ পর্যটককে আকর্ষণ করে! 

রুমির ম্যাগনাম ওপাস হল ‘মাসনবী’ যা মধ্যযুগের শ্রেস্ট সাহিত্য সম্পদ হিসেবে গণ্য ! 

© Md Zahid Ansari

Leave a comment

Your email address will not be published.