রসায়ন

উভধর্মী অক্সাইড বা উভধর্মী পদার্থ- Amphoteric substance

A Amphoteric  Substance বা উভধর্মী পদার্থ বলতে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ বুঝানো হয়, যাদের মধ্যে অম্ল এবং ক্ষার উভয় রূপ আচরণের ক্ষমতা আছে।
উভধর্মী পদার্থগুলো অক্সাইড, হাইড্রোক্সাইড, আয়ন ইত্যাদি হতে পারে। এদের মধ্যে উভধর্মী অক্সাইডগুলোর ভূমিকা অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। অক্সাইডগুলোর উভধর্মীতা তাদের গঠনে ঐ ধাতুর জারণ অবস্থার উপর নির্ভর করে। (এখানে ধাতু আসলো কোথা থেকে?)

হয়তো তোমরা জানো-
ধাতুর অক্সাইড  →  ক্ষারধর্মী অথবা উভধর্মী
অধাতুর অক্সাইড  → অম্লধর্মী অথবা নিরপেক্ষ
[ বলতো, অপধাতুর অক্সাইড কোন ধর্মী?]

সুতরাং, উভধর্মী অক্সাইডগুলো শুধুমাত্র ধাতুর অক্সাইড-ই হতে পারে।
[ ভেবে দেখো, উভধর্মী অক্সাইড গুলোর উভধর্মীতা কিভাবে ঐ ধাতুর জারণ সংখ্যার উপর নির্ভর করে? একটা উদাহরণ দেই চিন্তার সুবিধার্থে,
(ক) ভ্যানাডিয়াম মনো অক্সাইড (VO)
(খ) ভ্যানাডিয়াম ট্রাই অক্সাইড (V2O3)→ ক্ষারীয়   (বা, ভ্যানাডিয়াম সেসকুইক্সাইড )
(গ) ভ্যানাডিয়াম ডাই অক্সাইড (VO2)→ উভধর্মী
(ঘ) ভ্যানাডিয়াম পেন্টা অক্সাইড (V2O5)→ উভধর্মী
HSC বা ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত খুব বেশি কাজে লাগবে এমন কিছু অক্সাইড হলো –
( জিংক অক্সাইড) ZnO, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড(Al2O3), লেড মনো অক্সাইড(PbO), লেড ডাই অক্সাইড(PbO2)

 

(ক) ZnO এর উভধর্মীতা

১. ক্ষার হিসেবেঃ
i. ZnO + HCl → ZnCl2 + H2O
(Zn-ক্লোরাইড)
ii. ZnO + H2SO4 → ZnSO4 + H2O
(Zn-সালফেট)

২. অম্ল হিসেবেঃ
i. ZnO + 2NaOH + 2H2O→ Na2[Zn(OH)4]
( জলযোজিত অবস্থায় )
বা, ZnO + 2NaOH→ Na2ZnO2 + H2O
(Na-জিংকেট) (জলবিযোজিত অবস্থায় )
ii. ZnO + Ca(OH)2 → ZnCaO2 + H2O
(ZnCaO2 এই যৌগের সংকেতটা কেমন কেমন যেন লাগছে না? নাম কি বলতো এটার?)

[ তোমরা কি জানো যখন তোমার দাতের ফিলিং করেন ডেন্টিস্টরা, তারা ZnO এবং Ca(OH)  এর পেস্ট বা এর মিশ্রণটাকেই ব্যবহার করেন? তাহলে তোমার দাতের মধ্যে যে ফিলিংটা আছে, সেটা মূলত ZnCaO2 এর কঠিন লবণ।

খ. Al2O3 এর উভধর্মীতা

১. ক্ষার হিসেবেঃ
i. Al2O3 + 6HCl→ 2AlCl3 + 3H2O
(Al-ক্লোরাইড)
ii. Al2O3 + 3H2SO4→ Al2(SO4)3 + 3H2O
(Al-সালফেট)

২. অম্ল হিসেবেঃ
i. Al2O3 + 2NaOH + 3H2O→ 2Na[Al(OH)4]
( জলযোজিত অবস্থায় )
বা,  Al2O3 + 2NaOH→ 2NaAlO2 + H2O
(Na-অ্যালুমিনেট) ( জলবিযোজিত অবস্থায় )
ii. Al2O3 + Ca(OH)2→ Ca(AlO2)2 + H2O
Ca -অ্যালুমিনেট) ( বিশেষ এক ধরণের সিগমেন্ট তৈরীর মুল উপাদান )

. PbO এর উভধর্মীতা

১. ক্ষার হিসেবেঃ
i. PbO + 2HCl →  PbCl2 + H2O
(Pb-ক্লোরাইড)
ii. PbO + H2SO4→ PbSO+ 3H2O
(Pb -সালফেট)

২. অম্ল হিসেবেঃ
i. PbO + NaOH + H2O→ Na[Pb(OH)3]
(জলযোজিত অবস্থায়)
বা , PbO + 2NaOH→ Na2PbO2 + H2O
(Na-প্লাম্বেট) (জলবিযোজিত অবস্থায়)

. PbO2 এর উভধর্মীতা

১. ক্ষার হিসেবেঃ
i. PbO + 4HCl→ PbCl2 + Cl2 + 2H2O
ii. PbO + 2H2SO4→ 2PbSO4 + O2 + 2H2O
iii. PbO + 4HNO3→ 2Pb(NO3)2 + O2 + 2H2O

২. অম্ল হিসেবেঃ
i. PbO2 + 2NaOH + 2H2O→ Na2[Pb(OH)6]
                                       (জলযোজিত অবস্থায়)
ii. PbO2 + 2NaOH → Na2PbO3 + H2O
                                           (Na-প্লাম্বাইট)  (জলবিযোজিত অবস্থায়

ঙ)SnO এর উভধর্মীতা

১. ক্ষার হিসেবেঃ
i. SnO+ 2HCl → SnCl2 + 2H2O
(স্ট্যানাসক্লোরাইড)
ii. SnO+ H2SO4 → SnSO4 + H2O
(স্ট্যানাস সালফেট)

২. অম্ল হিসেবেঃ
i. SnO+ 4NaOH + H2O→ Na4[Sn(OH)6]
(জলযোজিত অবস্থায়)
বা, SnO + NaOH→ Na2SnO2 + H2O (!!!)

এবার আরেকটু গভীর প্রসঙ্গে যাই-
এতক্ষণ তো শিখলে Amphoteric Substance বা উভধর্মী পদার্থ নিয়ে।
এবার কিছু কথা বলবো Amphiprotic Substance নিয়ে। এই নাম বইয়ে নেই। এর বাংলা আমরা জানি না। বিষয়টা পড়ে বুঝে আমাদেরকে এর একটা যুতসই বাংলা তুমি প্রস্তাব করতে পারো। আপাতত আমরা Amphiprotic নামই ব্যবহার করছি।
যেসব পদার্থ প্রোটন  (H+) দান ও গ্রহণ উভয়ই করতে পারে, তাদেরকে Amphiprotic বলে।
এই ধারনাটি মূলত ব্রনস্টেড-লাউরী মতবাদ থেকে এসেছে।
যেমন ধরো- H2O, অ্যামিনো Acid, বাই-কার্বনেট আয়ন, বাই-সালফেট আয়ন ইত্যাদি।
H2O   →  H+ + OH
(অম্ল হিসেবে)
H2O + H→  H3O+ ( হাইড্রোনিয়াম আয়ন )
(ক্ষার হিসেবে)

সকল Amphoteric পদার্থ (উভধর্মী)-গুলো Amphiprotic নয়!
কিন্তু সকল Amphiprotic পদার্থগুলো Amphoteric (উভধর্মী)!
যেমন ধর, Al2O3 এটা Amphoteric পদার্থ কিন্তু Amphiprotic নয়।
কারণ Amphiprotic হতে হলে তাকে H+ নির্গত করতে হবে। কিন্তু এতে কোনো H+ নেই।

কিছু উভধর্মী হাইড্রোক্সাইডের উদাহরণ-   Zn(OH)2, Be(OH)2
যেমন-
Be(OH)2 + 2HCl→ BeCl2 + 2H2O
Be(OH)2 + 2NaOH → Na2[Be(OH)4]  বা, Na2BeO2 + 2H2O
 
** বলোতো Be এর অক্সাইড উভধর্মী না, কিন্তু এর হাইড্রোক্সাইড কেন উভধর্মী?
Amphoteric আর   Amphiprotic substance যেহেতু তুমি শিখে গেছো, আরো একটু আগে তোমাকে নেয়াই যায় । এবার আমরা শিখবো Ampholyte substance সম্পর্কে।
Ampholyte হলো সেসব পদার্থ যাদের গঠনে একই সাথে অম্লীয় ও ক্ষারীয় মূলক থাকে। এদের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হলো,

Author

admin

Comments (3)

  1. Shironaam Dot Com
    September 7, 2018 Reply

    very helpful post

  2. Nurul Islam
    February 13, 2020 Reply

    A nice post..& very helpful post..

  3. sarower
    March 12, 2020 Reply

    Its very good! Exelent

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *